Sunday, 23 February 2014

নগ্ন

নগ্ন 


রাতের খেলা
রাতের মতন
মানাব্পুতুল নাচ যেমন
নগ্ন শ্রী নারী ..
বানিজ্যে বস্তি
লক্ষ্মী একনম্বর 

Saturday, 16 November 2013

শোভাবৈষ্টমি




জীবনের প্রায় শেষপ্রান্তে
দাঁড়িয়ে বৈষ্টমি শোভা
জীবন বাঁচাতে আজ ভিক্ষাবৃত্তি
যৌবন গিয়েছে কবে মনে নেই

বাকিজীবন চলবে এইমনে
হলদিবাড়ি লোকাল-
প্রতি শনিবার
রাণীনগর থেকে শিলিগুড়ি

এক মুঠো চালডাল
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে হাজারো
বৈষ্টমির অপেক্ষায়
হাতেহাতে আমাদের

বাকি দিন নাতির ঘরে বসে
বেঁচেথাক  টিভি দ্যাখা
প্রকাশ হোক শেষ   ইচ্ছে

আরও  কিছুদিন

Saturday, 5 October 2013

আসল কথা



জাস্ট  পাঁচশো টাকায় একটা  শরীর
ভাবিনি দিতে  রাজি হবে
নাম  জানিনা যার

জীবনে  এই প্রথম

কল্পনাও করিনি একটা  চুক্তি
হবে মহালয়ার ভোর ফুরিয়ে

আঠারো  বছর পর

পুজোর বাজার আসল কথা
উঠলো শরীর জুড়ে

অমাবস্যা কাটিয়ে পঞ্চমীর
আলোতে আসার কথা হল

পুরো বায়না গুঁজে  দিলাম সন্ধিস্থলে

বুকের মাঝে ঢিপঢিপ
রিস্ক নেওয়ার বিপ

দুজনের




স্মৃতির পিছনে

স্মৃতির পিছনে 


দেখেও  দ্যাখোনি একযুগেরও আগে 
কার্যত পাত্তাই দাওনি 
অথচ 
আজ ফিরেফিরে চাও

আমি রাজবেশে চলেছি
একা ভাসানে  
মায়ের পিন্ডদান 
সুতির ধুতি সিল্কের পাঞ্জাবি  
রাজমহলের পথে

শিমুলতলায় তোমাররূপ দেখে  বিস্মিত  
আমি  হাঁটছি   স্মৃতিরপিছনে

ডুমনি  ঘরের বালিকাবঁধু
একদিন বারবার চেয়ে থাকা

ফ্লাইওভারে ওর প্রথম সংসার
কাঠের আগুনে পোড়া হাঁড়ি 
কড়াই  মাজাঘষার লড়াই

খুব সকালে সাইকেলে টিউশান
যেতাম

আজ ফিরে চায় মনের অবকাশ
আজ আমার মায়ের মৃত্যুর এক বছর

আশ্বিনের রোদ্দুর তখন সত্যি উপেক্ষিত
স্মৃতিতে তোমার দুধেআলতা আঙ্গুল
পুড়ে যায়  
ফুটন্ত হাঁড়ির জল আর ভাত
বিরামহীন
সুনদারাম নির্বিকার  বাঁশের  ঝুড়িতে

চোখের মণিতে আজ ভাসে 
পরিপূর্ণ রূপ লাবন্য একযুগ পর
পীতবর্ণা  গৌড়বঙ্গের পুরাতন সিল্ক শাড়ি
উজ্জ্বল  উচ্ছল কাঠামো 
দেবীর মত

উনিসেফ' আইরন ট্যাবলেট মিথ্যে
হার মানে স্কুলের শেখা বুলি

আমার  খুব আনন্দ তখন
রাজবেশে ডুমনি মেয়ের ভাললাগা
স্বীকৃতির অপেক্ষা
আর একবার ফিরে সে দেখবে না

প্রেমাদ্র চোখের রেখা সত্যি দেখেছিল   
আরো একবার বহুদিন পর 
সুন্দর অভিভুত সিঁথি
সেই উজ্জ্বল  রং


Saturday, 28 September 2013

কাম

আমৃত্যু জেগে থাকে কাম   
শুধু যোগ্যতা হারিয়ে যায়  
শত চেষ্টার পর
বারবার  
বিনম্র আবেদন

Friday, 20 September 2013

শুকনো পাতায় প্রেম


-    নীরাজনা
এক জোড়া শুকনো পাতার মত 
একটা প্রজাপতি 
উড়ে এসে জুড়ে বসতে চেয়েছিল 
আমার শরীরে 
বারবার 

অফিসের গাড়ি ধরে শহরে যাব
তাড়া রয়েছে 
তবু ওর জন্য থামলাম 
প্রত্যক্ষ করলাম প্রয়োজন
একটা নিশ্চিত আশ্রয় 

আমার জানুতে নতজানু 
হয়ে আঁকড়ে ধরার ইচ্ছে
অনুভব করি 

জুতোর ফিতে বাঁধা বন্ধ 
নিথর আমি
–একটা শুকনো গাছের শাখা 

দেখলাম ওই শুকনো পাতায়
আছে প্রাণ আছে সংশয় 
মধ্যিখানে দাবি 
বিচিত্র রং রূপ লাবন্য 
রেণুর দ্যুতিরেখা অজস্র সৃষ্টি 

আমার শাখায় প্রেম জাগলো 

দেখলাম মৃদু কম্পনেও 
শুকনো পাতার আত্মরক্ষার নিজস্বতা 

উড়ে যায়  দূরে যায় আবার 
আসে কাছে 
দক্ষিনা  হাওয়া বইছিল  
অনুকূলে আমার ভালবাসা 
 আমি রসিক 
হয়ে রইলাম কিছুক্ষণ 

একটা ভুতুরে রং নিয়ে এসেছিল 
প্রথমবার অবজ্ঞা করেছি 
দ্বিতীয়বার নিজের মনে জিজ্ঞাসা 
আমি অবাক  হয়ে চোখের মণি 
স্থির রেখেছিলাম ...

ডানামেলা শরীরে বিচিত্র রং কারুকার্য 
আত্মরক্ষার জন্য একটা বোরখা 
- অদ্ভুত ধূসর পাখনা 

বোরখার আড়ালে একি মোহমায়া !
আমিতো  ঋশ্যশৃঙ্গ  নই !

সেই দিনটা ছিল শুক্রবার 
নিজেকে ভালবাসার  দিন 
তাই প্রত্যাখান করতে পারিনি 
শুকনো পাতায় প্রেম 

সত্যি বলতে ওই অস্থির পাতা 
দক্ষিনা বাতাসে গা ভাসিয়ে আমার 
ঘরে ঢুকতেই নিঠুর  আমি  
গৃহবন্দি করলাম তাকে 

শহরে ছুটছি অথচ মন 
ফিরে আসে বারবার 
দ্রুত ফিরে এসে দেখি 
সে নেই 
খুঁজেই পাচ্ছিনা 

কার্যত দিনটা আমার ভোগে গেল 
তারপর থেকে মুড অফ
দুদিন অপেক্ষায় থেকে তিন 
দিন পর আচমকা দেখা 


নীরব অভিমানে একটা ক্লান্ত প্রাণ 
পড়ে আছে আমার ঘরের এক কোণে 
আহত মন অভুক্ত শরীর 
নেই প্রত্যাশা আপন জিজ্ঞাসা 
রবিবারের রাত্তিরে 

ভাদ্রের পূর্নিমা 
মাঝরাতে পাখিরা ডাকে
আমার চেনা শালিক
ঘাড়ের  লোম উঠে যাওয়ার দুঃখে
কেঁদে ওঠে 

আমি রাত জাগি 
কবিতা লেখার ভনিতা ক’রে প্রেম 
সাগরে ডুবদিই 

অপরাধী আমি
পাহারাদার সেজে মদের গন্ধে বিভোর 

প্রায় ষাট বছরের পুরনো একটি পাতা 
দেখতে চাইছি  তলানিতে একবিন্দু 
রসবোধ সামান্য প্রচেষ্টার পর 
দেখি শিশিরের মত বিন্দু বিন্দু সবুজ
যৌনরেখা ক্রমশ জেগে উঠছে

ভোররাতে চোখ বুঁজে আসে 
বুকের মাঝে আলতো ছোঁয়ায়
ভাঙে  ঘুম 
দেখি হৃদয়ের কাছে রামধনু আঁকা 

জানলার ফাঁক বেয়ে সূর্যকিরণ 
দেখি ওই  জোড়া শুকনোপাতা 
ক্ষনিকের  অতিথি আমার
ঘর প্রদক্ষিন করে
তারপর আলোর গতিতে উড়ে যায় 
নিজের ঠিকানায় 





Sunday, 15 September 2013

পথ হারিয়ে



পালানোর সুন্দর পথটা ছিল 
মাঝপথে 
কিন্তু আসল সীমানা পথ 
ভুলে সে হারিয়ে গেল 
জুলাই-এর  একদিন 
  

তারপর ফিরে এসে 
শত চেষ্ঠা বৃথা 
উল্টে ক্ষতি হলো অনেক 
অবমাননাও সহ্য করতে হল 
পথ হারানোর পর 


... প্রথাগত ক্রীতদাস 
পেশাগত আত্মসমর্পনের পথ 
ধরে স্নায়ু যুদ্ধের মন 
রাখে ইনবক্স-এ প্রতিদিন 

প্রশ্ন ভাসে 
কেন মাঝপথে পালানো হয়নি 
কেন কিসের ভুল 
তার  পোস্টমর্টেম 

আসে অজস্র মেইল 
তবু নেই প্রত্যয় আশা 
পি এম রিপোর্টও  অস্পস্ট 

যারা হাতছানি দিয়েছিল 
তাদের সেল ফোন বন্ধ 

পথ হারানোর পর 
আবার পালানোর অনির্দিষ্ট পথটা 
সে খোঁজে আজও